সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কিংবা SEO এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কিংবা SEO করে ই-কমার্স সাইটির কন্টেন্টগুলোকে ভালো একটি অবস্থানে আনতে সবসময়ে বেশকিছু বিষয়ের

দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন । ই-কমার্স সাইটে বেশিরভাগ সময় প্রোডাক্ট বিষয়ক বর্ণনা দিয়ে থাকি আমরা । সেইজন্যে এর বিষয়ে পূর্ণাজ্ঞ কোন প্রোডাক্ট রিভিউ কিংবা প্রোডাক্ট এর ভালো-মন্দ নিয়ে খুব একটা আলোচনা করি না । খেয়াল রাখতে হবে কনটেন্ট সবসময়ের জন্যে প্রয়োজন ,কনটেন্ট এভার । কিন্তু একটা ই-কমার্স সাইটের বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর বিক্রি বাড়াতে হলে এর সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ কিছু কাজ করতে হবে ।

সেই বিষয়গুলো ই-কমার্স সাইটটির পাশাপাশি অন্যভাবে কাজ করেও ই-কমার্স সাইটটির জন্যে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে থাকবে ।

সেগুলো কি ?

অবশ্যই প্রোডাক্ট বিষয়ক লেখা , লিংক বিল্ডআপ , ব্যাকলিংক , Do follow ,No follow , সাব ওয়েবসাইট , ব্লগিং অপশন ।

১। সাবওয়েবসাইট কিংবা কমার্স সাইটের সহযোগী সাইট(এফিলিয়েট মার্কেটিং) :

এ সাইটগুলো আমাদের মূল ই-কমার্স সাইটের জন্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । এ সাইটগুলোর সহায়তায় আমরা প্রোডাক্ট বিক্রির যে কাজ করে থাকি একে আমরা এক হিসেবে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে পারি । সাধারণত “আমাজন” এর মত বড় কমার্স সাইটগুলোতে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কথা জানি । সেইসব প্রতিষ্ঠানের জন্যে অনেক কোম্পানি কিংবা ব্যক্তি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে । কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু “আমাজন” এর মতন বড় নয় এবং অচেনা, তাই সেই এফিলিয়েট মার্কেটিংগুলো আমাদের নিজ উদ্যোগেই করতে হবে । এটা SEO করে আমাদের প্রোডাক্টগুলোর নিশ ধরে সেখানে সার্চ ইঞ্জিনে নিজের কোম্পানির প্রোডাক্ট ক্রেতার কাছে সহজে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে ।

২। কিওয়ার্ড রিসার্চঃ 

কিওয়ার্ড রিসার্চ ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সামনের দিকের উদ্যোগকে অনেক বেশি ত্বরান্বিত করে । পরিকল্পনামাপিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করার প্রয়োজন পরে ব্যবসার অবস্থানকে শক্ত করার জন্যে । একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে যত বেশি প্রোডাক্ট সংখ্যা বাড়বে প্রতিনিয়ত ততবেশি কিওয়ার্ড রিসার্চ এর গুরুত্ব ও প্রয়োজন বেড়ে যাবে । প্রতিটি প্রোডাক্ট বিষয়ক কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে হবে সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌঁছোতে হলে ।

৩। কিওয়ার্ড নির্বাচনঃ 

কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে হলে প্রথমেই বেশকিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয় । কেন , কি , কিভাবে এবং কি জন্যে কিওয়ার্ড নিয়ে আমাদের কাজ করবো । প্রোডাক্ট এর ওপর নির্ভর করে কিওয়ার্ড নির্বাচনের কাজ করতে হবে । কিওয়ার্ডকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । সেগুলো হল –

  • জেনেরিক কিওয়ার্ড( Generic Keyword)
  • ব্রড ম্যাচ কিওয়ার্ড (Broad Match Keyword)
  • লং টেল কিওয়ার্ড (Long Tail Keyword)

সঠিকভাবে কিওয়ার্ড সিলেক্ট করতে হয় প্রোডাক্ট বিষয়ক তথ্য সার্চ ইঞ্জিনে উপরের দিকে যেন থাকে সেই অবস্থান দৃঢ় করার জন্যে । যদি প্রোডাক্ট হয় কম্পিউটার এর মনিটর তবে সেই ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড সিলেকশনের বিষয় তিন রকম হবে এই তিন ধরণের কিওয়ার্ড বাছাইয়ের বিষয়ে ।

  • – জেনেরিক কিওয়ার্ড( Generic Keyword) – Samsung Monitor
  • – ব্রড ম্যাচ কিওয়ার্ড (Broad Match Keyword) – Samsung LCD Monitor
  • -লং টেল কিওয়ার্ড (Long Tail Keyword) – How to buy Samsung LCD Monitor

ঠিক এরকম করে বিভিন্নরকম কিওয়ার্ড নিয়ে সাইট এর জন্যে কাজ করে এসইও করতে হবে । ভালো কনটেন্ট , ভালো ব্যাকলিংক সবকিছুর সমন্বয়ে সাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো অবস্থায় নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে ।

কনটেন্টঃ 

ফাস্ট লুক ফাস্ট ইম্প্রেশন এ কথাটি এসইও এর ব্যাপারে অবধারিতভাবে মানতে হবে । প্রথম দেখায় আমাদের কাছে যা ভালো লাগে সে জিনিসের ব্যাপারে আমরা খুব বেশি আগ্রহী হয়ে থাকি । একটি সাইটের কনটেন্ট হচ্ছে সেই “প্রথম দেখা” বিষয় । কনটেন্ট এর প্রাঞ্জল – সহজবোধ্য তথ্য , আকর্ষণীয় উপস্থাপন সাইটের বিষয়ে একজন ক্রেতাকে প্রথমেই লেখাগুলো পড়তে আগ্রহী করে তুলবে । প্রথম লাইনের লেখাটিই পরবর্তী অংশ কিংবা এর পরে কি বিষয় ব্যাপারে আছে তা জানার ব্যাপারে ইচ্ছে সৃষ্টি করবে । কনটেন্ট বিভিন্ন রকমের হবে , সেটা হতে পারে লেখা , ছবির মাধ্যমে তথ্য দেয়া , ভিডিও । চমৎকার তথ্যমূলক ছবি , অডিও , স্লাইড ,লেখা কিংবা ভিডিও এর সুন্দর উপস্থাপন সাইটের গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট হিসেবে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে এবং সার্চ ইঞ্জিনে সাইটের ট্রাফিক বাড়াবে । সাথে রাখতে হবে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে সাইট শেয়ারিং এর ব্যবস্থা । এতে করে পাবলিক রিস বেড়ে যাবে ।

৫। মেটা ট্যাগ , টাইটেল এবং ডেসক্রিপশনঃ

মেটা ট্যাগ , টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন এর সঠিক ব্যবহার করতে হবে সাইটে । কোন একটি পেজের ট্যাগ কিংবা টাইটেল কিংবা ডেসক্রিপশন অন্য আরেকটি পেজের সাথে যেন না মিলে যায় সেই বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে । প্রতিটি ভিন্ন পেজের ভিন্ন ভিন্ন মেটা ট্যাগ , টাইটেল এর ভিন্নতা প্রদান করবে । গুগল কিংবা অন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলো পেজকে বিভিন্ন অবস্থান প্রদান করবে এই মেটা ট্যাগ , টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন অনুসারে ।এতে করে প্রতিটি পোস্টের আলাদা করে একটি নাম , একটি ইউআরএল এড্রেস থাকবে । যার দ্বারা প্রতিটি লেখা পোস্ট ভিন্ন ভিন্ন নামে সার্চ ইঞ্জিনে নিজের অবস্থান ঠিক রাখবে ।

৬। প্রোডাক্ট ভিত্তিক এসইওঃ

প্রোডাক্ট ভিত্তিক এসইও করতে হবে । দু-একটি প্রোডাক্ট কিংবা নির্দিষ্ট করে একটি প্রোডাক্ট নিয়ে কিওয়ার্ড সিলেক্ট করে নিশ সাইট বানাতে হবে । এক্ষেত্রে লং টেইল কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হতে পারে । যদি শুধুমাত্র পোশাক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কোন নিশ সাইট করতে হয় তবে সার্চ ভলিউম দেখে মোটামুটি সার্চ ভলিউমের কয়েকটি কিওয়ার্ড নিয়ে একটি নিশ সাইট তৈরি করতে হবে । উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে পোশাক নিয়ে কোন নিশ সাইট তৈরি করতে চাইলে কয়েকটি কিওয়ার্ড নিয়ে লংটেইল কিওয়ার্ড নিয়ে একটি পূর্ণাজ্ঞ পোশাক ভিত্তিক ডোমেইন ব্যবহার করে এসইও এর কাজ শুরু করতে হবে । “nice shirt collection” নিয়ে যদি সাইট দাঁড় করানো হয় তবে সাইট দেখে অনায়াসে মানুষ বুঝতে পারবে এই সাইটে সবচেয়ে আকর্ষণীয় শার্ট বিষয়ক তথ্য উপাত্ত পাওয়া যাবে। কোন ডিজাইনের শার্ট এখন সবচেয়ে চলছে , কোন শার্টগুলো এই মুহূর্তে খুব বেশি স্টাইলিশ সেই বিষয়ে এই নিশ সাইট তথ্য পাওয়া যাবে । এর ওপর নির্ভর করে মানুষ মানুষ কোন শার্ট কিনবে তার জন্যে মূল ই-কমার্স সাইটিতে যাবে এবং তার পছন্দের শার্টটি কিনতে উদ্বুদ্ধ হবে । এভাবে করে নিশ সাইটগুলো মূল সাইটের সহকারী হিসেবে থেকে মূলসাইটে ভিজিটর সংখ্যা বাড়াবে এবং ক্রেতা বাড়াবে । এতে করে গুগল র‍্যাংক এ সাইটের অবস্থান উপরে ওঠার পাশাপাশি প্রোডাক্ট সেল এর পরিমান ও বৃদ্ধি পাবে ।

৮। ব্যাকলিংকঃ 

নিশ সাইটগুলোর সাথে মূল সাইটের ব্যাকলিংক তৈরি করে মূল কমার্স সাইটটির মধ্যে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করে মূল ই-কমার্স সাইটে পজিশন ,গুগলে অবস্থান ভালো করা যেতে পারে । এতে করে সার্চ ইঞ্জিনে ক্রেতা কোম্পানির ই-কমার্স সাইট এর সাথে সরাসরি পরিচিত হতে পারবে। । কমার্স সাইটটির সাথে যে যে সাইট যুক্ত আছে তাতে এংকর ওয়ার্ড কিংবা এংকর টেক্সট থাকে কিছু । এ এংকর ওয়ার্ড কিংবা এংকর টেক্সট হচ্ছে যে শব্দটি কিংবা যে বাক্য এর সাথে ই-কমার্স সাইটির ব্যাকলিংক রয়েছে সেই লিংকের শব্দের ওপর মাউজ কারসর রাখলে সেই শব্দে ব্যাকলিংক এর নাম কিংবা ব্যাকলিংকের শব্দ দেখা যায় , যে শব্দের ওপর কারসর রাখলে এ লেখা দেখা যায় সেই শব্দ এংকর ওয়ার্ড কিংবা এংকর টেক্সট । এর দ্বারা একজন ব্যক্তি সেই এংকর ওয়ার্ড কিংবা এংকর টেক্সট দ্বারা প্রাথমিকভাবে ব্যাকলিংক এর ব্যাপারে একটি ধারণা পায় । এভাবে অন্য একটি সাইট থেকে ই-কমার্স সাইটে প্রবেশের সুবিধা রাখা যায় , সাথে করে শব্দের সাথে সামাঞ্জস্যতা রেখে সেইরকম প্রোডাক্ট এর ব্যাকলিংক করা থাকলে সেই ভিন্ন সাইট থেকে সরাসরি ক্রেতা তার পছন্দের প্রোডাক্ট এর খোঁজ পেতে পারে । এই যে লিংক যেটি মূল সাইটটি পেলো সহযোগী সাইট থেকে অর্থাৎ মূল সাইটের লিংক থাকলো সহযোগী সাইটে , এটিই মূল সাইটের ব্যাকলিংক । তথ্যমূলক ছবি , অডিও , স্লাইড ,লেখা কিংবা ভিডিও এর মাধ্যমেও মূল সাইটের জন্যে ব্যাকলিংক করা যায় । ইউটিউব , ভিমিও এধরণের ভিডিও শেয়ারিং সাইট থেকেও ব্যাকলিংক করা যায় মূল সাইটের জন্যে । এছাড়া উইকি , ফোরাম, ব্লগ , বিভিন্ন কমিউনিটি সাইট এর সাথে ব্যাকলিংক করা যেতে পারে । এই যে এখানে “বল্ড” আকারে কিছু শব্দ কিংবা বাক্য আছে সেগুলো ব্লগের ই-কমার্স বিষয়ক কিছু লেখার ব্যাকলিংক হিসেবে কাজ করছে

 SERP (SEARCH ENGINE RESULTS PAGE) :

একজন ব্যবহারকারীর জন্যে সার্চ ইঞ্জিন তার প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেন্ট কিংবা তথ্য উপস্থাপন করে থাকে । যিনি এই সুবিধা নিচ্ছেন তার কি ধরণের কনটেন্ট দরকার সেই ধরণের কনটেন্ট হাজির করে । সবসময় ইউনিক কনটেন্ট এর এ জন্যে অনেক গুরুত্ব । ভালো মানের কনটেন্ট সবসময়য়ে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো ইনডেস্ক পেয়ে থাকে । প্রতি মুহূর্তে সার্চ ইঞ্জিনে অবস্থান ধরে রাখার জন্যে প্রয়োজনীয় ভালো কনটেন্ট , লিংক বিল্ড সবকিছু অনেক গুরুত্ব । সার্চ ইঞ্জিনে ভালো ট্রাফিকের জন্যে এর অন্য কোন উপায় নেই । তাই লেখার কোয়ালিটি মান ধরে রেখে ট্রাফিক বাড়াতে হবে । ভালো কনটেন্ট অনেক ভালো ট্রাফিক আনবে । এরজন্য ওয়েবমাস্টার এর ভালো ব্যবহার প্রয়োজন । গুগল এসইও টুল ওয়েবমাস্টার টুলস https://www.google.com/webmasters/tools/ এবং বিং ওয়েবমাস্টার টুলস www.bing.com/toolbox/webmaster এর মাধ্যমে মূল সাইটটি সহ সহযোগী সাইটগুলো এই ওয়েবমাস্টার এ সাবমিট করে ওয়েবসাইট ইনডেস্ক করতে হবে । এতে করে গুগল ও বিং উভয় সার্চ ইঞ্জিনে খুব দ্রুত সময়ে লিংক ইনডেস্ক হবে । সাইট কি অবস্থানে আছে সার্চ ইঞ্জিনে তা দেখতে হলে http://www.alexa.com/ থেকে ওয়েবসাইট এলেক্সা র‍্যাংক দেখে নেয়া যায় । সে অনুসারে সার্চ ইঞ্জিনে একটি সাইটের র‍্যাঙ্ক জানা যাবে । এছাড়া https://www.pinterest.com/ এর মতন সাইট থেকে Do follow   ব্যাকলিংক তৈরি করে ওয়েবসাইটের ইনডেস্ক বৃদ্ধিতে সহায়তা করা যায় ।

১০। প্রোডাক্ট সিলেকশনঃ 

ব্যাকলিংক এর এংকর টেক্সট এর মাধ্যমে যেহেতু ক্রেতা মূল সাইটের ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণা পাবে , সেহেতু ক্রেতা বুঝতে পারবে কোন এংকর টেক্সট এ ক্লিক করে ক্রেতা তার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণা নিবে । আর সেই এংকর টেক্সট থেকেই মূল সাইটে চলে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রোডাক্ট কিনে নেবে ক্রেতা । প্রোডাক্ট যদি শার্ট হয় এংকর টেক্সট এ সেই ধারণা দেয়া থাকবে আর ক্রেতা সেই মোতাবেক সেই প্রোডাক্ট কেনার প্রয়োজনীয় মূল ই-কমার্স সাইটের শার্টের এর পেজে চলে যাবে রিভিউ পড়ে। খেলার সামগ্রীর ক্ষেত্রেও একইভাবে লিংক বিল্ডআপ করে এংকর টেক্সট ধরে ব্যাকলিংক ক্রেতার চাহিদার কথা মনে করে সাইটগুলো তৈরি করতে হবে। একজন ক্রেতা এংকর টেক্সট এ ক্লিক করে সেই বিষয়ক পরামর্শ কিংবা ব্লগের লেখারও লিংক পেতে পারে যদি সেই লিংক করা যে সাইটের সাথে সেই সাইটে যদি এরকম তথ্য কিংবা পরামর্শ লেখা থাকে ।

১১  হোস্টিং সার্ভার প্ল্যানঃ

এসইও করার জন্যে হোস্টিং নিয়েও ভাবনার প্রয়োজন পরে। মূল ই-কমার্স সাইটির সাহায্যকারী নিশ সাইটগুলো একই শেয়ার হোস্টিং এর অন্তর্ভুক্ত রাখা উচিত নয় । ব্যাকলিংক রয়েছে শুধুমাত্র সেইরকম নিশ সাইটগুলোর জন্যে আলাদা আলাদা হোস্টিং লাগবে, অর্থাৎ শেয়ার হোস্টিং হলে হবেনা । ভিন্ন হোস্টিং সার্ভারে ভিন্ন ভিন্ন সাইট রাখতে হবে , যা ব্যাকলিংক রয়েছে সেইরকম নিশ সাইটগুলোকে গুগল সার্চের জন্যে সহায়ক হবে। ই-কমার্স সাইট এর জন্যে ক্লাউড হোস্টিং সার্ভার ব্যবহার করা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

১২  কিওয়ার্ড ্যাংকঃ

প্রোডাক্ট রিভিউ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট সম্পর্কে দারুণ ধারণা দেয় । সেই রিভিউ কিংবা প্রোডাক্ট সম্পর্কে কন্টেন্টগুলো ইউনিক হতে হবে । কিওয়ার্ড সার্চ করে করে মোটামুটি সার্চ ভলিউম আছে এরকম কিওয়ার্ড বের করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি প্রোডাক্ট এর নামের সাথে যায় সেইরকম কিছু কিওয়ার্ড নিয়ে নিশ সাইটের জন্যে কাজ করতে হবে । কোন প্রকার লিংক বিল্ডআপ ছাড়া শুধুমাত্র ইউনিক আর্টিকেল দিয়ে কিওয়ার্ড ব্যবহার কন্টেন্টকে দারুণ অবস্থানে নিয়ে যাবে । এজন্যে প্রোডাক্ট এর কনটেন্টকে “কনটেন্ট কিং” বলে । শুধু আকর্ষণীয় তথ্যবহুল ইউনিক কনটেন্ট দিয়েও সার্চ ইঞ্জিনে মূল ই-কমার্স সাইটের সহযোগী সাইটটির সার্চ লেভেলের অবস্থান ভালো করা যাবে।

১৩। ডু Do follow – (নো) No follow:

বিভিন্ন সাইট আছে যেগুলো Do follow বিষয়টি অনুসরণ করে । আমাদের অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে হয় , অনেক প্রোডাক্ট সম্পর্কে অনেক মানুষ জানতে চায় তখন মানুষ সেই দরকারি তথ্যের জন্যে সাইটগুলোতে প্রবেশ করে । Do follow মূলত হচ্ছে মানুষ যেসব সাইটগুলোকে বেশি অনুসরণ করে সেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় । গুগল তার সার্চ ইঞ্জিনে Do follow ব্যাপারটি গুরুত্ব দেয় এবং সেই বিষয়গুলো সার্চ রেজাল্টে গুরুত্ব পেয়ে অবস্থান করে । নিম্নে দেয়া কোড লাইনটির মত Do follow বিষয়গুলো আমাদের সাইটগুলোয় রাখলে ওই বিষয় গুগল সার্চ ইঞ্জিন বেশি প্রাধান্য দিবে । Do follow দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয় যে এই সাইট অনুসরণ করতে হবে ।

Do follow এর বিষয়টির মতন ঠিক বিপরীত একটি বিষয় হচ্ছে No follow । একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়টি কোন কনটেন্ট এর ক্ষেত্রে কোডিং এ বিষয়টি দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয় যে এই লেখা গুগল অনুসরণ না করলেও চলবে । এতে করে গুগল সেই পোস্টগুলোকে প্রাধান্য দেয় না । No follow এর ক্ষেত্রে এ কোডটি ব্যবহৃত হয় পোস্টের ব্যাকগ্রাউন্ডে । 

১৪। এফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যবস্থা এফিলিয়েট মার্কেটারঃ

ই-কমার্স সাইটে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে অতিথি এফিলিয়েট মার্কেটারদের জন্যে । মার্কেটিং এবং এসইওতে দক্ষ মানুষরা যেন ই-কমার্স সাইটটির বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে এসইও মার্কেটিং করে তার জন্যে উৎসাহমূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে । এফিলিয়েট মার্কেটারদের জন্যে বিভিন্ন ধরণের উৎসাহমূলক বোনাস অফার রাখতে হবে । এর কারণে নতুন করে ক্রেতাগোষ্ঠীর সৃষ্টি হবে । এতে করে একটি কোম্পানি হিসেবে একটি ই-কমার্স সাইট প্রতিষ্ঠানের সামনের দিকের পথ সুগম হবে ।

১৫। ভিডিও চ্যানেলঃ 

ভিমিও , ইউটিউব এরকম বিভিন্ন ভিডিও বিষয়ক সাইটগুলোতে কোম্পানির নিজস্ব কিছু চ্যানেল খোলার ব্যবস্থা রাখতে হবে । সেই ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলো থেকে নিজস্ব ব্র্যান্ড কিংবা প্রতিষ্ঠান বিষয়ক বিভিন্ন প্রণোদনা কিংবা কোন বিশেষ অফার বিষয়ক কোন বিষয়ে ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে হবে । বিভিন্ন ছবি , কিংবা ভিডিও ফাইল থেকে সাইটের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে । এর সাথে বিভিন্ন সামাজিক সাইটগুলোতে করতে হবে শেয়ারিং । এই ভিডিও চ্যানেলগুলোতে সবসময় কোম্পানির জিনিস নিয়ে ভিডিও শেয়ার হবে তা নয় বরং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে , এতে করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে । মানুষ ভিডিও চ্যানেল থেকে সাইটের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে ।

১৬। গেস্ট কিংবা ইউজার রিভিউঃ

গেস্ট কিংবা ইউজার রিভিউ ই-কমার্স সাইটগুলোর জন্যে খুব গুরুত্ব বহন করে । বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্রেতা বিভিন্ন রকম প্রোডাক্ট কিনে থাকে ই-কমার্স সাইট থেকে । ক্রেতার ভালো লাগা- মন্দ লাগা বিষয়গুলো পরবর্তী ক্রেতাদের কাছে অনেক অর্থবহ । একজন ক্রেতা যদি কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করে ভালো সার্ভিস পায় এবং সেই রিভিউ যদি ই-কমার্স সাইটটি কিংবা এর ব্লগে নিজের ভালো অনুভূতি প্রকাশ করে তবে এই বিষয়টি সমগ্র নতুন ক্রেতাদের মধ্যে আস্থার অবস্থান তৈরি করে । মানুষ বিভিন্ন ক্রেতার দেয়া বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে রিভিউ থেকে এই ব্যাপারে নির্ভর করতে শুরু করে যে এই কোম্পানি থেকে প্রোডাক্ট কিনলে সেই প্রোডাক্ট ভালো সার্ভিস দিবে । শুধু প্রোডাক্ট ভালো সার্ভিস দিলে হবেনা , কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিদের সুন্দর ব্যবহার , কোম্পানি থেকে বিভিন্ন প্রমোশন , মাঝে মাঝে কিছু উপহার প্রিমিয়াম গ্রাহকদের কাছে এই বিষয়গুলো সমগ্র বিষয়ের ওপর একটা প্রভাব রাখবে । আর তার শেষ গন্তব্য হবে ইউজার রিভিউ । এই রিভিউ গুগল থেকে মানুষ জেনে এর সহযোগী ব্লগ কিংবা অন্য সাইট থেকে কিংবা ই-কমার্স সাইট থেকে প্রোডাক্ট এর প্রতি কোম্পানির প্রতি আস্থা পোষণ করবে । তাই এই বিষয়গুলোও অবধারিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করতে সক্ষম ।

১৭  ব্লগিং ফোরাম প্ল্যাটফরমঃ

সাইটের নিজস্ব একটা ব্লগিং প্ল্যাটফরম রাখতে হবে । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সাথে সেই ব্লগিং প্ল্যাটফরমের লিংক বিল্ডআপ রাখতে হবে । প্রোডাক্ট রিলিটেড পোস্ট অর্থাৎ প্রোডাক্ট রিভিউ , প্রোডাক্ট সম্পর্কে ক্রেতাকে ধারণা দেয়াসহ শুরু করে বিভিন্ন দরকারি ও ইন্টারেস্টিং তথ্য , বিভিন্ন তথ্যমূলক সেবা , জানা –অজানা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নিজস্ব ব্লগিং প্ল্যাটফরমে লিখে সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করতে হবে । গেস্ট ব্লগাররের ব্যবস্থা রাখতে হবে , বিভিন্ন ব্লগার ব্লগে লিখবে এবং নিজেদের বিভিন্ন মতামত দিবে । বিভিন্ন ফোরামে সাইট নিয়ে ও সাইটের প্রোডাক্ট নিয়ে লিখতে হবে। বিভিন্ন ফোরামে কমেন্ট করে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে মানুষকে জানাতে হবে । সাইটের নিজস্ব রিভিউ সিস্টেম রাখতে হবে । যাতে করে ক্রেতা প্রোডাক্ট কিনে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে নিজস্ব মতামত কিংবা প্রোডাক্ট সম্পর্কে নিজের রিভিউ দিতে পারে । এ রিভিউ কিংবা ব্লগের মন্তব্য সবই মূল ই-কমার্স সাইটটির পরিচিতি ও র‍্যাংকিংয়ে অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে । বিভিন্ন ফোরাম কিংবা ব্লগ থেকেও সাইটের জন্যে ব্যাকলিংকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে ।

১৮  কনটেন্ট এভারঃ

কনটেন্ট প্রতিটি সাইটের জন্যে সবসময় বিশেষ কিছু । খুব পরিপাটি-গোছানো , সুন্দর , নির্ভুল , প্রাঞ্জল-সহজবোধগম্য লেখা মানুষের কাছে খুব আরামদায়ক পড়ার জন্যে । একটি লেখা কতটা প্রোডাক্ট এর সাথে সম্পর্কিত সেই বিষয়টা খুব ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে । অপ্রয়োজনীয় লেখা না রাখাই একটি সমগ্র কনটেন্ট এর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিক । প্রোডাক্ট যদি হয় পারফিউম তবে সেই বিষয় নিয়ে সুন্দর উপস্থাপনা রাখতে হবে । প্রোডাক্টটি কোথাকার ,কিসের তৈরি , কেমন, রঙ , মানুষ কিরকম মনে করে এই প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে সবকিছু বিষয় লেখায় উঠে আসলে চমৎকার হয় । এই প্রোডাক্ট এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় তুলে ধরতে হবে লেখায় মুগ্ধতা সৃষ্টি করে । কোন কথা যেন অতিরিক্ত মনে না হয় , অপ্রয়োজনীয় না হয় সেইভাবে লেখাকে তুলে আনতে হবে ও উপস্থাপন করতে হবে সাইট ভিজিটর কিংবা ক্রেতার কাছে । লেখা সাবলীল হতে হবে, একটি লেখা কয়েকবার সম্পাদনার টেবিলে নিয়ে কাঁটাছেড়া করতে হবে এবং এরপরেই কনটেন্ট মানুষের কাছে উপস্থাপিত হবে । ব্যাকলিংক ,কিওয়ার্ড রিসার্চ সাথে চমৎকার কনটেন্ট উপস্থাপন হচ্ছে মূল বিষয় । সবশেষে বলতে হয় “Content ever” , কনটেন্ট সবসময়ের ।

একটা সুন্দর এসইও প্ল্যান সমগ্র সাইটের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম । মানুষের কাছে পৌঁছানো , সাইটের অবস্থান সুদৃঢ় করা এর সব দিকগুলোই এর দ্বারা সম্ভব এবং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন ।

ধন্যবাদ সবাইকে ।

ভালো থাকবেন ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে