আচ্ছালামুআলাইকুম। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। গত পর্বে আমরা কভার লেটার এবং অন্যন্য সকল গুরুত্বপূর্ন দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকের পর্বে আমরা পোর্টফোলিও এবং অন্যন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আমাদের পূর্বের অধ্যায়গুলো দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

আমিতো নুতুন তাহলে কি পোর্টফোলিও যোগ করবো? আর পাবই বা কোথায়?

এটাই স্বাভাবিক প্রশ্ন। নুতুন অবস্থায় আপনি যেহেতু আগে কাজ করেন নি। তাই আপনার পোর্টফোলিও না থাকারই কথা। কিন্তু দ্রত কাজ পেতে হলে আপনাকে আগে থেকেই কিছু পোর্টফোলিও অবশ্যই তৈরি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে আগে নিজে নিজে কিছু কাজ করতে হবে। এবং সেই কাজগুলোর ফাইল এক যায়গায় করে একটি অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে রাখতে হবে। এটা হবে আপনার কাজের বিড কারার সময়ের পোর্টফোলিও। যেটি আপনি বিড করার সময় বিডের সাথে পূর্বের কাজের নমুনা স্বরুপ যোগ করে দিবেন।

এটা আসলে অনেকটা পোর্টফোলিও না। এটা হচ্ছে ইন্সট্যান্ট ফাইল যাতে করে ক্লাইন্ট আপনার প্রোফাইল চেক করার আগে বিড চেক করার সময়ে খুব দ্রত আপনার কাজের একটা নমুনা দেখে নিতে পারে। তাই এই রকম অ্যাটাচমেন্ট এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে নুতুন অবস্থায় কাজ পওয়ার জন্য এবং আশা করা যায় এই ভাবে অ্যাটাচমেন্ট যুক্ত করে করে বিড করতে পারলে ২০ থেকে ৩০ টা কাজে আবেদন করার আগেই আপনি সারা পাবেন।

উদাহরণ- হয়ত এই ইন্সট্যান্ট পোর্টফোলিও এর ব্যাপারটা আপনাদের কাছে এখন ও ক্লিয়ার হয়নি। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝা যাক।

ধরুন আপনি এসইও মএর কাজ করবেন। তো এসওইও তো ব্যাকলিঙ্ক এর অনেক কাজ পওয়া যায় এ ক্ষেত্রে আপনি আগে থেকেই আপনার সাইটের জন্যও কিছু ব্যাকলিঙ্ক করে রাখেন। এখন কথা আসে আপনার নিজের সাইট আবার পাবেন কোথায়? Blogger.com থেকে ফ্রীতে একটি ব্লগ খুলে নিতে পারেন। তাহলে এই ব্লগের কিছু ব্যাকলিঙ্ক করে সেই ব্যাকলিঙ্ক গুলো আপনি একটি এক্সেল ফাইলে সেইভ করে রাখতে পারেন এবং এই ফাইলটি আপনি যখন ব্যাকলিঙ্ক সংক্রান্ত কোন কাজে বিড করবেন তখন যোগ করে দিবেন।

একই ভাবে আপনি যদি ভিডিও এডিটিং এর কাজ করেন তাহলে আগে থাকতে কিছু ভিডিও এডিট করেন। এই ক্ষেত্রে আপনি যেকোন ভিডিও এডিট করতে পারেন।  সেই ভিডিও এডিট করে ইউটউবে আপলোড করেন। এবং সেই  ভিডিওগুরোর লিঙ্ক একটা এক্সল ফাইলে সেভ করে রাখুন। এর পরে যখনই ভিডিও এডিটিং এর কাজে আপনি আবেদন করবেন তখন সেই সেভ করা এক্সেল ফাইলটি ( যেখানে আপনার আগে থাকতে এডিট করা কিছু ভিডিওর লিঙ্ক রয়েছে) অ্যাটাচ করে দিন। তাহলে ক্লাইন্ট আপনার প্রফাইল ভিডিট না করেই আপনার কাজ পর্যবেক্ষন করতে পারবেন। ফলে আপনি নুতুন হলেও কাজ পওয়ার সম্ভবনা অনেক।

বিশেষ সতর্কতাঃ অনেক সময় ক্লাইন্ট যাচাই করতে চায় আপনি ক্লাইন্ট এর লেখা জব ডিসক্রিপশন পরে বিড করেছিন নাকি না পরেই বিড করেছন। এই জন্য ক্লাইন্ট মাঝে মাঝে বিশেষ শব্দ লিখে দেন এবং বলে দেন আপনা কভার লেটারে ঐ শব্দ প্রথমে লিখে তারপরে কভার লেটার লেখা শুরু করুন। এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকুন- যেন সেই ধরনের কোন কথা যদি ক্লাইন্ট জব ডিসক্রিপশন এ বলে থাকেন তাহলে যেন আপনার কভার লেটারে আপনার সেই শব্দটা লিখতে আপনি ভুলে না যান।

সারসংক্ষেপঃ

আপওয়ার্কে আপনি যদি আপনার প্রফাইল ১০০% কমপ্লিট করেন এবং আইডি ভেরিফিকেশন করেন তাহলে আপনি প্রতি সপ্তাহে ২০-২৫ টা কাজে বিড করার অনুমুতি পাবেন। এই হিসেবে এক মাসে ৮০-১০০ টা বিড। আশা করি উপরে উল্লেক্ষিত টেকনিক অবলম্বন করলে আপনি এক মাসের মধ্যেই প্রথম কাজটি পাবেন ইনশাআল্লাহ। মোট কথা আপনি কখনই জব ডিসক্রিপশন না পরে কাজে বিড করবেন না। আর কভার লেটার নিজের হাতে লিখবেন। এবং কভার লেটার এর সাথে অ্যাটাচ করে আপনার পূর্ব  কাজের নমুনা পের্টফোলিও  হিসেবে যোগ কেন দিন। এমন ভাবে সবকিছু করবেন যাতে করে ক্লাইন্ট সহজেই বুঝতে পারে যে, আপনি কাজটি করতে পারবেন। আর কাজের রেটটি একটু কম রাখবেন তবে এত কম রাখবেন না  যাতে ক্লাইন্ট এর মনে আপনার কাজের কোয়ালিটি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

আপনাদের জন্য সর্বশেষ টিপস সমূহঃ

উপরে যা কিছু আলোচনা করলাম তার প্রক্ষিতে কিচু কথা বলছি যেগুলো সবসময় মাথায় রাখবেন

১.  যেহেতু আপনি নুতুন এবং আপনার কোন ফিডব্যাক নেই সুতরাং কাজ পেতে একচু কষ্ট হবেই। এ ক্ষেত্রে আপনাকে কম রেটে জবে আবেদন করতে হবে। এমন একটা রেট বজায় রাখবেন যাতে করে বেশি কমও না হয়ে যায় আবার বেশি ও না হয়ে যায়। অবশ্যই  রেট ঠিক করার আগে ক্লাইন্ট এর প্রিভিয়াস ওয়ার্ক হিষ্টোরি দেখে নিবেন।

২.  যেই ক্লাইন্টের পেমেন্ট মেথুড ভেরিভাইড না সেসকল বায়ারের কাজে কখনই বিড করবেন না। কারন যাদের পেমেন্ট মেথড ভেরিভাইড না তাদের কাজ শেষে আপনাকে পেমেন্ট করতে পারবেনা ।

৩. অনেক সময় দেখবেন অনেক জবের নেচে কন্ডিশন দেওয়া থাকে যেমন- কমপক্ষে ১০০ ঘন্টা কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বা ফিডব্যাক স্কোর ৪.৫০ থাকতে হবে। যেহেতু আপনি নতুন এবং আপনার এর কোনটাই নেই । এর জন্য এই ধরনের কন্ডিশন যুক্ত কজে বিড না করাই ভালো।

৪.  উপরের দেওয়া চিত্রে ৩নং চিহ্নিত স্থানে দেখুন Interviewing: 0 লিখা আছে। এর অর্থ হচ্ছে এখনও পর্যন্ত এই জবের জন্য কাইকে ইন্টারভউ এর জন্য ডাকা হয়নি। যদি এখানে কাউকে ইন্টারভিউ  এর জন্য ডাকা হয়েছে  তাহলে এই সকল কাজ বিড না করাই ভালো। করন সাধারত যখন ক্লাইন্ট কাউকে  Interviewing এর জন্য কল করেন তখন কাজটি তাকেই দিয়ে দেন। এ জন্য যে সল জবে দেখবেন ১ জন বা তার বেশি লোককে Interviewing ইন্টারভউ এর জন্য কল করা হয়েছে সেই সকল কাজে বিড না করাই উত্তম।

৫. বেশি বেশি সময় অনলাইনে থাকতে হবে।  কারণ আপওয়ার্কে দেখবেন ২-১ ‍মিনিট পর পর ই জব পোষ্ট হতে থাকে। চেষ্টা করবেন একটা জব পেষ্ট হওয়ার সাথে সাথে বিড করতে। কারন যত তাড়াতাড়ি বিড করবেন ক্লাইন্ট এর কাছ থেকে তত দ্রুত কাজ পাওয়ার সম্ভবনা থাকে।

৬. মনে রাখবেন অনলাইনের কাজ এ প্রচুর ধৈর্য ধরতে হবে। ধৈর্য ছাড়া কিছুই হবে না। সবুরে মেওয়া ফলে। ধৈর্য ধরে বিড করে যান। দেখবেন কাজ পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

আশা করি নুতুনদের জন্য আমার লেখাগুলো খুবই হেল্পফুল হবে। অনলাইনে আয় সংক্রান্ত এই রকম আরো টিপস পেতে আমাদের সাথে থাকুন। দেখা হবে পরের অধ্যায়ে ।

আমাদের পরবর্তী পোষ্টের আমন্ত্রন জানিয়ে আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি

আর……..

আমাদের ব্লগ ভালো লেগে থাকলে আপনার বন্ধুদের ওসাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর কোন মন্তব্য থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করুন—। ধন্যবাদ সবাইকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here