টার্গেট শেষ- এবর  চলুন দেখি কি লিখে বিড করবেন? কি টেকনিক অবলম্বন করবেন?

বিড করার পূর্বে সতর্কতা নিয়ে এতক্ষন আলোচনা করলাম। এবার চলুন দেখে নেই বিড বা কভার লেটার লেখার সময় আপনি কিকি লিখবেন? তার আগে আমাদের জানতে হবে

কভার লেটার কি?

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে কভার লেটার আসলে কি?? যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি, কোন কাজে বা জবে আবেদন করার সময় আমরা যে সমস্থ কথা লিখে আমরা কাজটি সম্পাদন  করি তাকেই মুলত কভার লেটার বলে । এক কথায় আপনি যে কথা লিখে কাজের জন্য আবেদন করবেন সেটাই হচ্ছে কভার লেটার ।

উপরে ১নং চিহ্নিত স্থানে দেখতে পাবেন ক্লাইন্ট কোন ধরনের ওয়ার্কার চান। এখানে  ক্লাইন্ট লোয়ার রেটের ওয়ার্কার খুজছেন।

২ নং চিহ্নিত স্থানে আপনি কত ডলার ঘন্টা হিসেবে কাজ করবেন সেটা লিখবেন। যদি ফিক্সড প্রাইসে কাজ হয় তাহলে আপনি পুরো প্রজেক্টের জন্য কত ডলার নিবেন সেটা লিখে দিবেন।

৩ নং চিহ্নিত স্থানে আপনাকে কভার লেটার লিখতে হবে। আপনি কিকি কথা লিখে কাজটিতে আবেদন করতে চান সেটা আপনি এই ৩নং চিহ্নিত স্থানে লিখবেন।

আশা করি কভার লেটার কি তা আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন।

এবার ফিরে আসি কাজের কথায়-

যেকোন মার্কেট প্লেসই হোকনা কেন? বিড করার সময় একটি সুন্দর কভার লেটার লেখার কোন বিকল্প নেই । এই কভার লেটারেই লুকিয়ে আছে যত যাদু। কভার লেটারে যে যত যাদু দেখাতে পারবেন সে তত স্বর্থক হবেন।

এখন কথা হলো  কিভাবে এই কভার লেটারটি  লিখলে ভালো হয়?

অনেকেই শুরুতে আগে থাকতে কভার লেটারটিকে গুছিয়ে একটি দরখাস্তের মতো করে রেডি করে কম্পউটারে রেখে দেয় এবং বিড করার সময় এই কভার লেটার শুধু কপি করে করে বসিয়ে দিয়ে কাজের জন্য বিড করে। হ্যাঁ এমন একটি সময় ছিলো যখন এই ভাবে কাজ পওয়া যেত কিন্তু এখন সেই দিন শেষ। গতবাধা কোন কভার লেটার দিয়ে এখন আর কাজ পওয়া সম্ভব নয়।

কবার লেটার নিখার পূর্বে অবশ্যই সম্পূর্ণ ডিস্ক্রিপশনটি পড়ে নিবেন। অনেকেই আছেন যারা জব ডিস্ক্রিপশন না পরেই কাজের জন্য বিড করেন। কিন্তু এটা করে একদম লাভনেই। কারণ আপনি যদি জব ডিস্ক্রিপশনটি নাই পরেন তাহলে কাজ করবেন কিভাবে? এই জন্য এখন অনেক  ক্লাইন্ট ডিস্ক্রিপশনে একটা বিশেষ শব্দ লিখে উল্লেখ করে দেন যে, আপনার কভার লেটারটি সেই বিশেষ শব্দ দিয়েই শুরু করতে হবে। এতে করে ক্লাইন্ট ভেরিভাই করেন যে, আপনি সত্যি তার জব ডিস্ক্রিপশনটি পড়ে বিড করেছেন কি না?

জব ডিস্ক্রিপশনটি ভালোভাবে পড়া হয়ে গেলে এবার ভাবুন ক্লাইন্ট ঠিক কি জানতে চাচ্ছেন বা কি করাতে চাচ্ছেন? সেটার উপর ভিত্তি করে কভার লেটার লিখুন।

তাহলে চলুন কভার লেটারের একটা উদাহরণ দেখে নেই।

Dear Hiring manager,

I am very excited about your project “Put the Job Title Here” that you posted recent. I have much knowledge about this work. Already I have done few projects like this. Please reply me to give few tasks by which I will proof my working skill & I can ensure you that I will work best.

However, I am a long time and regular worker of odesk. I can work 40+ hours per week.I have Skype id and Email for easy communication; if you want I will send you.

I am ready for face an interview and I am ready to start work by your great kind response.

Thanking to you

(Put your name here)

এই হলো একটা স্যাম্পল কভার লেটার। অনেকেই আছেন যারা এই রকম কভার লেটার সংগ্রহ করে রাখে এবং কাজের বিড করার সময় শুধু কপি পেষ্ট মারে। এখন আপনি বলুন, আপনি যদি বায়ার হতেন এবং এইরকম পূর্ব নিধারিত কভার লেটার লিখে যদি কেই আপনার পোষ্ট করা কাজে বিড করতো তাহলে আপনি কি তাকে হায়ার করতেন? অবশ্যই না। কারণ উনি তো আপনার পেষ্ট করা জবটাই পরেননি। হ্যাঁ এটাই হবে আপনি যদি এই রকম পূর্ব নির্ধারিত কবার লেটার দিয়ে দিয়ে বিড করেন। কভার লেটার অবশ্যই  হাতে লিখবেন এবং ক্লাইন্ট আপনাকে যেই কাজ করতে বলেছেন সেই কাজের ভিত্তিতেই লিখবেন।

তাহলে কভার লেটার  কিভাবে লিখবো-

কভার লেটার লেখার আগে মনে রাখবেন, আপনাকে একটি কভার লেটারই প্রমান করতে হবে আপনি ক্লাইন্ট এর দেওয়া কাজটি যথাযথ ভাবে সম্পাদন করতে পারবেন। তাও আবার অল্প কতায় ক্লাইন্টকে বাঝাতে হবে, কারণ একটি কাজে যদি ৫০ টা বিড পরে তবে এর মধ্য থেকে আপনার কভার লেটার টি ক্লাইন্ট নাও পরতে পারেন। এর জন্য অল্প কথায় ক্লাইন্টকে বোঝাতে হবে। এজন্য আমার উপদেশ হলো মাত্র দুই লাইনে লিখুন-

“আমি এই কাজটি খুব দ্রততার সাথে করতে পারবো, কারণ আমি আগেও এই কাজ করেছি। দয়া করে অ্যাটাচমেন্ট এ এর প্রমান দেখুন।ধন্যবাদ।”-  এর সাথে আপনার পূর্বে করা কিছু কাজের নমূনা বা আপনার পের্র্টফোলিও অ্যাটাচ করেদিন।

 কভার লেটার ইংরেজিতে লিখে দিলে ভালো হয়-

Hi,

I can do this work quickly becasue I have done this types of work before and I have real experience. To see my previus works kindly check my attatched files.

Thanks.

এবার ভেবে দিখুনতো একজন ক্লাইন্ট আপনাকে কাজ দিতে এই কখা এর থেকে বেশি কি জানার থাকতে পারে। আপনি কাজটি আগে করেছেন এবং তার প্রমান ও আপনি দিয়ে দিয়েছেন। ঠিক এটাইতো একজন বায়ার চান। একজন দক্ষ এবং পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ওয়ার্কার । এই ভাবে অল্প কথায় আবেদন করুন।

তবে সব যায়গায় আমার এই রকম ভাবেই বিড করবেন না কারন, অনেক সময় ক্লাইন্ট আপনার কাছ থেকে কিছু তথ্য জানতে চায়। যেমন আপনি যদি ভিডিও এডই এর কাজ করেন তাহলে হয়তো জিজ্ঞেস করতে পারে- আপনি কোন সফটওয়্যারটি ব্যবহার করবেন  অথবা আপনি কোন বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন কিনা । এ ধরনের আরো অনেক প্রশ্ন ক্লাইন্ট আপনাকে করতে পারে । যদি ক্লাইন্ট আপনাকে কোন ধরনের প্রশ্ন করে থাকে তবে ক্লাইন্টকে আপনি সেই প্রশ্নের উত্তর যোগ করে দিবেন।

তো বন্ধুরা আজ এপর্যন্তই আগামী পর্বে আমরা পোর্টফোলিও এবং অন্যন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। তো সেই পর্বে আমন্ত্রন জানিয়ে আজকে এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাইকে ধন্যবাদ—-