পূর্বের অংশের পরে আজ আমি আপনাদের সাথে আমার হাজির হলাম নুতুন আরেকটি অধ্যায় নিয়ে- ইতিমধ্যে আমরা ২টি পর্ব  শেষ করেছি। আমাদের আগের পর্বগুলো না দেখলে আজকের পর্ব ভালোভাবে বুঝবেন না তাই পূর্বের পর্ব দেখতে ক্লিক কুরুন এখানে—–

পর্ব – ০১

পর্ব – ০২

আপনি কি অনলাইনে আয় করতে আগ্রহী?

এসইও শেখার মাধ্যম আপনিও ঘরে বসে আয় করতে পারেন।

তরুণরা পড়ালেখা বা অন্যন্য কাজের পাশাপাশি ফ্রীল্যান্সিং করে অনলাইন থেকে আয় করতে পরেন। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিক নিদের্শনা এবং সেই অনুযায়ী কাজ শেখা। কাজ না শিখে অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব নয়। আর প্রথমে আপনি কি কাজ শিখবেন? কোথা থেকে শিখবেন। কাজ শেখার পরে আপনি কোথায় কাজ করবেন?  কাজ করার পরে উপার্জিত টাকা কিভাবে ব্যাংক এ্যাকাইন্টে আনবেন।এই সমস্থ তথ্য জানা একজন অনলাইন আয়ে আগ্রহীর পক্ষে খুবই জরুরি। সঠিক তথ্য জনা না তাকলে আপনি খুব সহজেই প্রতারিত হতে পারেন।

ফ্রীল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা হয়ে দাড়ায় নুতুনরা বুঝতেই পারেন না কোথা থেকে শুরু করবেন।তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো নুতুনরা আগে এসইও এর কাজ শিখতে পারেন। কারণ এসইও তুলনামুলক ভাবে সহজ। অল্প সময়ে আপনি শিখতে পারেন। কোডিং এর কোন ঝামেলা নেই। এবং অন্যন্য সেক্টরের তুলনায় এসইও তে আপনি খুব সহজে প্রফেশনাল লেভেলে যেতে পারেন।

আপনি যেই সেক্টরে কাজ করেন না কেন। সেই সেক্টর এর টার্মগুলো আপনার জানা অব্শ্যক। কারণ ইন্টারনেটের প্রতিটি সেক্টরের সাথে প্রত্যেক্ষ বা পরোক্ষ ভাবেড় এসইও জরিত। সুতরাং এসইও এর কাজ শেখার কোন বিকল্প নাই।

সরাসরি বিড করা এবং অন্যন্য টিপস

ইদার্নিং অনলাইন মার্কেট এ নুতুনদের জন্য প্র্রথম বারের মতো কাজ পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দারিয়েছে। প্রথম প্রথম অনেকে খুব উৎসাহ নিয়ে বিড করলেও কয়েকটা বিড করার পরে যখন দেখেন যে, কাজের কোন খোজখবর নেই তখন হতাশা হয়ে  কাজর আশা ছেড়ে দেন। আসলে এটাই ঘটে ৯৮% ব্যর্থ ফ্রীল্যান্সারদের ক্ষেত্রে।

ফ্রীল্যান্সিং এর শুরুতে এই হতাশাই হলে যে কারো জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। আপনি যদি এই হতাশাকে জয় করতে না পারেন তবে ধরে নিন আপনা ফ্রীল্যান্সিং কাজ আর করা হবে না। আর আপনি যদি  সত্যি হতাশ হয়ে কাজ এর আশা ছেড়ে দিয়ে থাকেন তবে আপনাকে বলবো ভাই একটু নড়ে চড়ে বসুন। পেছনের সবকিছু ভুলে যান। এখনি মনে মনে বলুন যা কিছু হয়ে গেছে যাক। এবার আমি সফলাত অর্জন করবই ।

আসলে এ ক্ষেত্রে আমি বলব। অনলাইনে প্রথম কাজ পাওয়া বাস্তবিক জ্ঞানে অতটা কঠিন না। সঠিক টেকনিক এবং দক্ষতার প্রমান রাখতে পারলে যে কউই ২০-২৫ দিনের চেষ্টায় তার জীবনের প্রথম কাজটি পেতে পারেন। ভাবছেন এটা কি করে সম্ভব?? তাহলে ভাই আমি বলব এটা ১০০% সম্ভব।

তাহলে চলুন দেখি কিভাবে শুরু করবেন।

আমি এই ব্লগের প্রথম অংশে বলেছিলাম কাজ না শিখে কখনোই ফ্রীল্যান্সিং সাইটে বিড করবেন না। এবং অবশ্যই আপনি কেবল সেই কাজেই বিড করবেন যে কাজটা আপনি ১০০% করতে পারবেন। 

তো কাজ শেখার পরে আপনি ফ্রীল্যান্সিং সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলবেন। এবং প্রোফাইল কমপ্লিট করবেন। এখন প্রফাইল কমপ্লিট করার পরে আপনার প্রধান কাজ হচ্ছে, আপনি যেই কাজ শিখেছেন সেই কাজ খুজে বের করা । এবং যে কাজটি মনে হয় আপনি ভালোভাবে করতে পারেন সেটি আবেদন করা বা বিড করা।

চলুন দেখি ঝামেরা সমাধান করা যায় কিনা?

শুরুতেই একটু ভাবুন। (বেশি ভাবাচ্ছি? যাক কোন সমস্যা না। কম বাবলেও চলবে।)

একজন ক্লাইন্ট কেন অনলাইনে কাজ পাষ্ট করেন?

হ্যাঁ এটার উত্তর হতে পারে উনি ওনার কোন ব্যাক্তিগত কাজ সম্পাদনের জন্য কাইকে খুজছেন অথবা এমন ও হতে পারে ওনার যে, ওনার কোন ক্লাইন্টের কাজ উনি কম টাকায় অন্য কোন ব্যাক্তি বা কাউকে দিয়ে করিয়ে নিতে চাচ্ছেন। সাধারণত এই কারণগুলোর জন্যই ক্লাইন্টগণ অনলাইন সাইটগুলোতে কাজ পোষ্ট করে থাকেন। তো এখন চিন্তা করুন স্বাভাবিক ভাবেই একজন ক্লাইন্ট চাইবে সবচেয়ে কম টাকায় ভালো একজন ওয়ার্কার খুজে নিতে। তবে এখানেও কথা থেকে যায়। টাকার পরিমাণ এবং ওয়ার্কার এর উপর ভিত্তি করে আমরা ক্লাইন্টগণকে দুই বাগে ভাগ করতে পারি।

১. কিপটা ক্লাইন্ট (খাটি বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য্ আমি দুঃখিত)
২. কোয়ালিটি ক্লাইন্ট ।

না ভাই এই শেণীবিভাগ কিন্তু কোন বই এ লেখা নাই । এটা আমার ধারণা মাত্র। আপওয়ার্ক সহ বিভিন্ন মার্কেটে এমন অনেক ক্লাইন্ট দেখা যায়, যারা চায় একদম কম মুল্যে কাজটি করিয়ে নিতে, এই ধরণের ক্লাইন্টদের কাজের কোয়ালিটির কোন দরকার নেই। একদম লো কোয়ালিটির কাজ হলেও এই সকল কিপটা ক্লাইন্টের কোন সমস্যা নেই এরা শুধু চায় কম দামে কাজটি হয়ে যাক।

আর এক ধরনর ক্লাইন্টঃ যাদের আমি কোয়ালিটি ক্লাইন্ট বলে উল্লেখ করলাম। এই সকল ক্লাইন্ট কখনই টাকা নিয়ে চিন্তা করে না। তারা চায় হাইকোয়ালিটির কাজ। দরকারে ৫ টাকর কাছে এরা ১০ টাকা দিতে রাজি আছে কিন্তু কাজটি হওয়া চাই সুপার কোয়ালিটি।

তো এই দুই ধণের ক্লাইন্ট সম্পর্কে তো জানলেন। এখন আপনি কাজের বিড করার সময় কি করে বুঝবেন যে, এই ক্লাইন্ট কিরকম? হ্যাঁ ঘাবড়ানোর কোন দরকার নেই। আপওয়ার্কে বিড করার সময় আপনি ইচ্ছা করলে ক্লাইন্ট এর পেছনের সকল কজের লিষ্ট এবং পেমেন্ট হিষ্টরি দেখতে পারবেন।

ক্লাইন্টের প্রিভিয়াস কাজের হিষ্টোরি দেখতে জবের টাইটেলে ক্লিক করার পরে যে পেজ আসবে সেটার একটু নিচের দিকে গেলেই পেয়ে যাবেন একদম শুরা থেকে এই পর্যন্ত ক্লাইন্টের যাবতীয় কাজের ইতিহাস। আর যদি দেখেন ক্লান্টের পেমেন্ট মেথুড ভেরিফাই করা নাই তাহলে তার কাজের বিড করবেন না। কারণ পেমেন্ট মেথুড যদি ভেরিফাই করা না থাকে তবে ক্লাইন্ট আপনাকে কাজ শেষে পেমেন্ট করতে পারবেন না। ফলে আপনি কাজ করেও কোন টাকা পাবেন না।

এখন টার্গেট করুন কার কাজে বিড করবেন।

হ্যাঁ, বিড করার আগে আমার মনে হয় একটু ক্লাইন্ট সিলেকশন করে নিলে ভালো হয় । কারণ আপনি এখন নুতুন। আর নুতুন অবস্থায় বেশি রেটে কাজ পাওয়াটা সহজ নয়। তাই আপনাকে কম রেটেই কাজ করতে হবে। কিন্তু কম রেট বলে আবার ‍কিন্তু ২ ডলার বা ৩ ডরার প্রতি ঘন্টায় নয়। মিনিমাম রেট বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। অনেক ফ্রীল্যান্সাররাই বলে থাকেন নুতুন তাই কম রেট মানেই কজে। কিন্তু ভাই আমি বলবো- নুতুন অবস্থায় কম রেটে বিড তো অবশ্যই করবেন। কিন্তু প্লিজ মান থাকবে না এমন রেটে বিড করবেন না। একটু চেষ্টা করলে আপনিও প্রথম অবস্থায় মিনিমাম ৫ ডলার প্রতি ঘন্টা রেটে কাজ পেতে পারেন।

কথা বলতে বলতে হারিয়ে গেলাম আবার ও । যাক আবার ফিরে আসি কাজের কথায়। তো প্রথম অবস্থায় কাজ পেতে হলে আমার মনে হয় কিপটা ক্লাইন্টদেরকেই টার্গেট করা উচিৎ। কারণ এই ধরনের ক্লাইন্টের কাছে কাজের কোয়ালিটির তুলনায় টাকার মুল্য অনেক বেশি। এই ধরনের ক্লাইন্টদের কাজ যদি আপনি করেন তাহলে কাজটা অতটা ভালো না হলেও চলবে।আর নুতুন অবস্থায় আপনি কাজটি ভালোভাবে সম্পূর্ণ নাও করতে পারেন। এক্ষেত্রে এই ধরনের ক্লাইন্টদের কাজ করলে হয়তো আপনার জন্য সুবিদা হবে। তবে অবশ্যিই এদের কাজ করতে হবে কম রেটে।

কিভাব চিনবেন এই ধরনের ক্লাইন্ট??

আমি আগেই বলেছি বিড করার সময় একটু খেয়াল করলে ক্লাইন্টের আগের কাজ সমূহের হিষ্টোরি দেখতে পারবেন। তাছারাও আপওয়ার্কে ক্লাইন্ট কোন ধরনের ওয়ার্কার চান তা উল্লেখ করে দেন। যেমন উনি কি লো রেটের ওয়ার্কার চান নাকি মিডিয়াম রেটের নাকি হাই রেটের সেটা তিনি জব ডিস্ক্রিপশনের সাথে উল্লেখ করে দেন।

উপরের ‍স্কিনশট এ দেখা যাচ্ছে ক্লাইন্ট এখানে মিডিয়াম বা ইন্টারমিডিয়েট টাইপের একজন ডেভেলপার খুজছেন। আবার অনক সময় কাজে দেখবেন লাল চিহ্নিত স্থানে লেখা আছে ক্লাইন্ট লো রেটের ওয়ার্কার খুজছেন। আবার কখনো দেখবেন যে, ক্লাইন্ট হাই Experienced ওয়ার্কার কুজছেন। নুতুন অবস্থায় সব সময় লো রেট এবং ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের কাজেই বিড করার চেষ্টা করবেন।

তাহলে মোট কথা হলো, কাজ পাওয়ার জন্য এমন ক্লাইন্ট খুজে বের করবেন যাদরে পেমেন্ট মেথুড ভেরিফাইড এবং যারা কম মূল্যে ওয়ার্কার খুজছেন। এই সকল ক্লাইন্ট এর কাজের বিড করার চেষ্টা করেন। তাহলে আশা করি দ্রুত সাড়া পাবেন।

আমাদের পরবতী অংশ অতি শিঘ্রই প্রকাশিত হবে। সবাইকে সাথে থাকার আমন্ত্রন যানাচ্ছি-