পূর্বের অংশের পরে আজ আমি আপনাদের সাথে আমার হাজির হলাম নুতুন আরেকটি অধ্যায় নিয়ে-   আমাদের প্রথম পর্ব না দেখলে আজকের পর্ব বুঝবেন না তাই পূর্বের পর্ব দেখতে ক্লিক কুরুন এখানে—–

এক্ষেত্রে আমি একটি উদাহরণ দেই আপনার কি মনে হয়? বাংলাদেশে একটি ওয়েব সাইট এর কাজ করতে গেলে এভারেজে কত টাকা লাগে??

ধরুন গড়ে ১৫,০০০ টাকা। ঠিক একই ওয়েব সাইট যদি আপনি আমেরিকার কোন ডেভেলপার দিয়ে করাতে চান তাহলে মিনিমাম ৪০০-৫০০ ডলার পে করতে হবে। মানে কত পড়লো বাংলাদেশির প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা। তাহলে ধরুন একজন ক্লাইন একটি ডিজাইন করাবেন । আমরিকার কাওকে দিয়ে করালে ৩০-৪০ হাজার টাকা লাগবে কিন্তু সেই কাজ যদি ফ্রীল্যান্সিং সাইট থেকে করান তবে মাত্র ১৫,০০০ টাকাতে করাতে পাবেন। ব্যাপারটা কেমন দাড়ালো। ওই ক্লাইন্টতো ভাববেন যে কাজ ৩০০০০ টাকা লাগে সেই একই কাজ মাত্র ১৫০০০ টাকা তাহলে ক্লাইন্ট তো আকাশ থেকে পরবেন তাই না?

এখন এই ১৫০০০ টাকার ভদ্রলোককে ক্লাইন্ট এর ২ রকম অনুভুতি হতে পারে।

প্রথমত উনি ভাববেন যে, এই লোক খুব সস্তা এবং একে দিয় উদ্দেশ্য হাসিল করাতে হবে।

৪. ইম্প্রেশনঃ

ক্লাইন্ট এর কাছ থেকে কাজ পেতে হলে ক্লাইন্টকে এমন কিছু জিনিস দেখাতে হবে যেটা দেখলে ক্লাইনট ইম্প্রেস হবে। এবং বুঝতে পারবে আপনি কাজটি করতে পারবেন। ফলে কাজটি আপনাকে দিতে চাইবে।

যেমন ধরুন আপনি ওয়েব ডিজাইনের কাজ করবেন। তাই আগে থাকতেই সুন্দর ওয়েব সাইটের পের্টফলিও বানান। আপনি যে সেক্টরে কাজ করবেন সেই সেক্টরের কিছু কাজ আগে থেকেই তৈরি করে রাখুন। এবং একই কাজ যে কোন ক্লাইন্টের কাজে বিড করার সময় নমুনা হিসেবে যোগ করে দিন।

এতে করে ক্লাইন্ট আপনার কভার লেটার পাওয়ার পাশাপাশি আপনার আগে থাকতে করা কিছু কাজের নমুনা দেখতে পাবে। এবং ক্লাইন্ট সেটা পছন্দ করলে আপনি কাজটি পেয়েও যেতে পারেন। সোজা কতা ক্লাইন্টকে বুঝিয়ে দিতে হবে আপনি কাজটি করতে পারেন। তাহলেই যতেষ্ঠ। এই পের্টফলিওটা বন্দুকের গুলির মত কাজ করে। আমি তো আপনাকে বলবো ১৫-২০ দিন ধরে আপনি আগে আপনার পের্টফলিও বানান। যেটা দেখলে ক্লাইন্ট আপনাকে কাজ দিতে বাধ্য থাকবে।

দেখুন তো পরবেন কিনা

বিড করার সময় সবসময় নিজেকে বায়ারের যায়গায় নিয়ে ভাবুন। একটু ভাবুন বায়ারের জায়গায় আপনি হলে কি করতেন আপনি কাকে কাজ দিতেন। আরো একবার ভাবুন আপনার মধ্যে কিকি যেগ্যতা আছে যেটার জন্য বায়ার আপনাকে হায়ার করবেন??? উত্তর গুলো যদি আপনি সংগ্রহ করতে পারেন তাহলেই কেল্লা ফতে। তবে এটাও ঠিক যেস সবসময় কিন্তু কেল্লা ফতে হবে না ।

কারণ আপনি যে কাজের জন্য বিড করছেন সে কাজের জন্য কিন্তু আরো অনেক এক্সপার্ট লোকও আছে যারা কাজের জন্য বিড করে যাচ্ছে। তারাও কিন্তু সেই রকম টেকনিক অবলম্বন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে হতাশ হবার কিছু নেই এই ভাবে বিড করতে পারলে আশা করি ১৫-২০ দিনের মধ্যেই কাজ পেয়ে যাবেন।

৫. সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণঃ

পোর্টফোলিও তো অনেক বানাইলে, কিন্তু ক্লাইন্টের কাজে বিড করার পরে ক্লাইন্ট যদি আপনার পোর্টফোলিও নাই দেখে তাহল আর কি লাভ হলো বলেন?? এর জন্য প্রয়োজন শক্তপেক্ত কভার লেলটার । দুইলাইনের এমন ভাবে কভার লেটার লিখতে হবে যাতে ক্লাইন্ট এর চোখ আপনার দিকে পরে।আর এ ক্ষেত্রে আপনার প্রফাইল পিকচারের গুরুত্ব অনেক বেশি। ভাবছেন আমি পাগল হয়ে গেলাম।

ভাবছেন ক্লাইন্ট কি আমার চেহারা দেখে আমাকে কাজ দিবে নকি? না মোটেও তা নয়, তবে সত্যতা জাচাই করার জন্য আমি ফ্রীল্যান্সিং সাইটে কিছু কাজ পোষ্ট করি। সেকানে আমি দেখেছি বিডারদের প্রফাইল গুলো কিভাবে সাজানো থাকে। এবং প্রায় ৫০টি বিড এ আপনার করা বিডটি ক্লাইন্টের চোখে নাও পরতে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটি ভালো মানের প্রফাইল আপনার জন্য ভালো গুরুত্ব বহন করে থাকে। এখন সবাই চেরাক হয়ে গেছে এখন আর আগের মতো কেউ লম্বা কভার লেটার লিখে না।

সবাই ২ লাইনে লিখে তবে একটি সুন্দর প্রফাইল পিকচার আপনার দিকে ক্লাইন্টের দৃষ্টি আনতে পারে। আর একবার যদি ক্লাইন্ট আপনার দিকে তাকায় তবে ক্লাইন্টের দৃষ্টি আপনার দিকে পড়বে। এবং আপনি যদি কোন পোর্টফোলিও এটাস করে থাকেন তবে সেটা দেখবে।

তবে ভাই প্রফাইলে পিকচারের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আমার নিজের মতামত তবে সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার মতো করে প্রফাইল পিকচার সেট করে দিতে পারেন।  তবে সএকটা বিষয় নিশ্চিৎ থাকেন যে, ক্লাইন্ট কোনদিন আমার আপনার চেহারা দেখে কাজ দিবেন না। তবে গুড লুকিং হওয়ার জন্য ক্লাইন্ট আপনার কভার লেটার আগে পড়বেন। এবং আপনার পোর্টফোলিও গুলো চেক করবেন।

এতক্ষন যে বকবক গুলো করলাম সেগুলো কিন্তু আপনার প্রোফাইল এবং পোর্টফোলিও রিলেটেড ব্যাপার । আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চেয়েছেন কিরকম কভার লেটার লিখবো । দুই একটা উদাহরণও চেয়েছেন অনেকেই। সেটা নিয়ে আলোচনা করবো আমাদের পরের পর্বে। তো সে পর্বে আমন্ত্রন জানিয়ে আজকে এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই ভালো থাকবেন আল্লা হাফেজ

দ্বিতীয়ত এই লোক জানেন না তাই এত কম টাকায় বিড করেছেন।

আর এই ভাবে এত কম রেটে বিড করার কারণে আমরা অনলাইন মর্কেট প্লেসে দিন দিন এত সস্তা হয়ে যাচ্ছি। অপর দিকে বাইরের ফ্রীল্রন্সার রা ঠিকই ১০-১৫ ডলারে বিড করে চলেছেন। আার এমন লোকও আছেন যারা ৩০-৪০ বা ৮০-১০+ ডলার রেটেও কাজ করে চালেছেন।

এই জন্য আমি বলছিনা যে আপনি একেবারে লোরেটে বিড করবেন না। আমি শুধু আপনাকে বরছি দয়া করে ১.৫ বা ২ ডলারে কাজের জন্য বিড করবেন না। একটা মান সম্মত রেট বজায় রাখুন। তবে এই রেট এবং ক্লাইন্ট এর রেটের সাথে একটা সম্পর্ক বিদ্যমান। যেটা আমার ব্লগের শেষের দিকে বর্ণনা করা হয়েছে।

আর হ্যাঁ উপরের কাজের রেটের ব্যাপারে এতক্ষন আামি যা বল্লাম শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই কিন্তু বাস্তব। তাই দয়া করে মনে কোন কষ্ট নিবেন না। আমিও একজন বাংলাদেশি তাই বাংলাদেশি ভাইকে সতর্ক করা আমার কাজ। যদিও কারও মনে কষ্ট লেগে থাকে তাবে ছোট ভাই হিসেবে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

কি ভাবে নির্ধারণ করবেন আপনার জন্য কাজের রেটটি?

আর এই জন্যই বিড করার সময় আপনার প্রতি ঘন্টার কাজের রেট ঠিক করে নিবেন। আর কাজের রেট ঠিক করার আগে দেখে নিবেন যে ক্লাইন্টের কাজে আপনি বিড করেছেন সে আগে কত রেটে বিড করিয়েছেন?

এখন হয়ত ভাবছেন এটা আবার কি করে দেখবো?

এটা দেখা একদম ইজি। আপনি যেই কাজে বিড করেছেন সেই কাজের টাইটেলে ক্লিক করার পর যেই পেজ আসবে সেই পেজেরেএকটু নিচে গে্লেই আপনি ক্রাইন্টের কাজের হিস্টরি দেখতে পারবেন।

ক্লাইন্ট যদি বেশি রেটে কাজ করিয়ে থাকে তবে আপনি আপনার রেটটা একটু বেশি দিবেন। আবার যদি দেখেন ক্লাইন্ট একটু কম রেটে আগের কাজ গুলো করিয়েছেন তাহলে আপনি আপনার রেটটা একটু কমিয়ে দিবেন। নুতুনদের জন্য আমার মতে ৪-৫ ডলার কাজের রেট নির্ধারণ করাই ভালো।

আমাদের পরবতী অংশ অতি শিঘ্রই প্রকাশিত হবে। সবাইকে সাথে থাকার আমন্ত্রন যানাচ্ছি-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here