সার্চ ইঞ্জিন  অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে যে কেউ সার্চ ইঞ্জিন  ব্যাবহার করে একটি ওয়েব সাইটকে বিনামূল্যে সকলের কাছে পৌছে দিতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন  অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) – কে সংক্ষেপে SEO এসইও বলে। ইন্টারনেটের ব্যবহার যত বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization) বা এসইও এর জনপ্রিয়তা তত বাড়ছে। অনেকে একে ফ্রিল্যান্সিং কাজ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া যারা ব্লগ পরিচালনা করছেন তাদের ব্লগের পরিচিতি বাড়ানোর প্রয়োজন তো আছেই। ইন্টারনেটে ব্যবসা বাণিজ্য করে টিকে থাকার জন্য এসইও (SEO) এর গুরুত্ব অপরিসীম।

তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় সার্চ ইঞ্জিন এর গুরুত্ব

তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কাজের ক্ষেত্র এখন বিশ্বব্যাপি ।  কম্পিউটার ইন্টারনেটের এই যুগে প্রথাগত চাকরির ধারণ পাল্টে যাচ্ছে! ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলো হবে ভার্চুয়াল অফিস।  পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই প্রতিষ্ঠানটির সকল এমপ্লয়ি অফিসের সমস্ত কার্যক্রম শেষ করবেন।  বর্তমান সময়ে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  যারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত তাদের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার বলা হয়।  ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে রয়েছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের অসংখ্য কাজ।  এ কারণেই সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (এস ই ও) ক্যারিয়ারের দিকে বর্তমানে অনেকেরই আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে ।  কিন্তু তার আগে আপনার ইংরেজি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ভাল ভাবে জেনে নিতে হবে।  ইংরেজি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ভালভাবে জেনে কাজ শুরু করলে আশা করা যায় এসইও ক্যারিয়ারে আপনার সফলতা নিশ্চিত।

সার্চ ইঞ্জিন  অপটিমাইজেশনের প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য গুলোর মধ্যে রয়েছে-

  1.          একটি সাইটকে সকলের কাছে সহজে পৌছে দেওয়া।
  2.          ওয়েব সাইটের জন্য প্রিয়তা বৃদ্ধি করা।
  3.          সাইটের ভিজিটর বা ট্রাফিক বৃদ্ধি করা।
  4.          বিভিন্ন ধরনের অনলাইন থেকে আয় করার পণটাটফরম হিসেবে কাজ করে।
  5.          তথ্য বিনিময় ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই যারা সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টিকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাইছেন, তাদের কাছে এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিভাগ হচ্ছে এসইও তথা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এর অবশ্য অনেক কারণ আছে। যেমন- যাদের কমপিউটারে দক্ষতা কম, কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং পেশায় আসতে চান, তারা সাধারণত ডাটা এন্ট্রিকেই তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন। কারণ, এরা মনে করেন এই পেশায় শুধু নাম-ঠিকানা এন্ট্রি করলেই বুঝি হয়! কিন্তু বাস্তবে এখন ডাটা এন্ট্রির কাজগুলো ঠিক সেভাবে আসে না। এখন ডাটা এন্ট্রি বলতে বুঝায় ক্যাপচা এন্ট্রি, ডকুমেন্ট কনভার্সন, ক্লাসিফাই অ্যাড লিস্ট এন্ট্রি, ওয়েব রিচার্জ, সাইনআপ এন্ট্রি, ইয়াহু আনসার, পোস্ট ডাটা ইন ওয়ার্ডপ্রেস সাইট, পোস্ট ডাটা ইন ব্লগ কিংবা ই-কমার্স ইত্যাদি। অতএব ডাটা এন্ট্রির কাজ আপাতদৃষ্টিতে যত সহজ মনে হয় প্রকৃতপক্ষে তত সহজ যে নয়, তা উপরের উদাহরণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে আমাদের যে মেধা ও শ্রমের দরকার সেই একই মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে আমরা খুব সহজেই এসইও’র কাজ করতে পারি। এক্ষেত্রে কাজের পারিশ্রমিকও ডাটা এন্ট্রির চাইতে অনেক বেশি।

ক্যারিয়ার হিসেবে-এসইও

অনেকেই ক্যারিয়ার হিসেবে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন। যাদের আগে থেকেই প্রোগ্রামিং সম্পর্কে ধারণা আছে, তাদের জন্য এটা খুব একটা কঠিন কিছু না হলেও বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ কমপিউটার ব্যবহারকারী প্রোগ্রামিং বিষয়টিকে ভয় পান। তা ছাড়া বেশিরভাগ মানুষই কমপিউটারে তাদের সময় কাটান গান শুনে, ছবি দেখে, ইন্টারনেটে চ্যাটিং করে অথবা ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের টুকটাক কাজ করে। তাই হঠাৎ করে তাদেরকে যদি প্রোগ্রামিংয়ের জটিল বিষয়গুলো লেখানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর তাই এ ধরনের কমপিউটার ব্যবহারকারীরা যাতে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন সেদিকে লক্ষ রেখে এ লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। আর এক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে-এসইও।

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কী?

সোজা কথায় বলতে হলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হচ্ছে কোনো একটি ওয়েবপেজকে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের (গুগল, ইয়াহু, বিং, এমএসএন, আসক) কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে উপস্থাপন করা, যাতে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কেউ সার্চ করলে অন্য ওয়েবসাইটকে পেছনে ফেলে সবার আগে ‘উত্তর সাইটটি’ প্রদর্শিত হতে পারে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, কোনো সার্চ ইঞ্জিনে আমরা যখন একটি শব্দ দিয়ে সার্চ করি তখন সাধারণত ১০টির মতো ফলাফল প্রদর্শিত হয়। এই ফলাফলের মধ্যে যদি কোনো ভিজিটর তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পান, তাহলে দ্বিতীয় পাতায় না গিয়ে শব্দ পরিবর্তন করে আবার অন্যভাবে অনুসন্ধানের চেষ্টা করা উচিত। তাই স্বভাবতই বলা চলে কোনো একটি ওয়েবসাইট কোনো এক বা একাধিক শব্দের বিপরীতে যদি শীর্ষ ১০ ফলাফলের ভেতরে থাকে তাহলে তার ভিজিটরের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনিভাবে বাড়বে তার আয়ের সংখ্যাও।

সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে

সার্চ ইঞ্জিনগুলো তৈরি হয়েছে, মানুষের তথ্য খুজে পাওয়ার জন্য। সেজন্য কোন কিছু সার্চ দিলে যাতে সবচাইতে সেরা তথ্য খুজে পাওয়া যায় সেজন্য সার্চইঞ্জিন সাইটগুলো কিছু পোগ্রাম তৈরি করে রাখে। যেটি সকল সাইটগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় তুলনা করে সেরা সাইটগুলোকে সার্চের সামনে নিয়ে আসে। সেরা সাইট নির্বাচন করার জন্য তারা দেখে ওয়েবসাইটটির মানসম্মত কিনা, ওয়েবসাইটের তথ্য সকলের জন্য প্রয়োজনীয় কিনা, ওয়েভসাইটটি কেমন জনপ্রিয়। এগুলোসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে ফলাফল প্রদর্শন করে।

ক্রলিংঃ

ওয়েব ক্রলিং এর মাধ্যমে। গুগলবট যখন একটি পেজ সংগ্রহ করে তখন এই পেজে পাওয়া লিংকগুলো তার ক্রলিং তালিকায় যোগ হয়। এই পদ্ধতিতে একটি লিংক অসংখ্যবার আসে। কিন্তু গুগলবট সেগুলো বাদ


দিয়ে একটি তালিকা তৈরী করে যাতে সবচেয়ে কম সময়ে পুরো ওয়েবকে কভার করা সম্ভব। এ ব্যবস্থাকে বলে ডিপ ক্রলিং। কোন পেজ কত দ্রুত পরিবর্তন হয় সটা ঠিক করা গুগলবট এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।


গুগল ডাটাবেজকে আপডেট রাখার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে জরুরী। গুগলবট কোন পেজে পরিবর্তনের একটা ফ্রেকোয়েন্সী বের করে এবং সেই হিসেবে ঠিক করা হয় যে গুগলবট কত সময় পর পর কোন পেজ ক্রলিং করবে। কারণ যেই পেজ মাসে একবার পরিবর্তন হয় সেটা কয়েকঘন্টা পরপর ক্রলিং করা সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই না। ডাটাবেজ আপডেট করার এই ক্রলিংকে ফ্রেশ ক্রলিং বলে।

ইন্ডেক্সঃ

গুগল ইন্ডেক্স – এর কাজ তুলনামূলক সহজ। গুগলবট ইনডেক্সারকে ক্রলিং করা পেজগুলোর ফুল টেক্সট দেয়। ইনডেক্সার সার্চ টার্মগুলোকে বর্ণমালা অনুসারে সাজায়। এবং কোন টার্ম কোথায় আছে তা সেভ করে রাখে। কিছু পরিবর্তন ও আনা হয় পেজগুলোতে। কিছু বিরাম চিহ্ন বাদ দেওয়া হয়। একের অধিক স্পেস থাকলে সেগুলোও বাদ দেওয়া হয়। ইংরেজির ক্ষেত্রে বড় হাতের অক্ষরগুলোকে বাদ দিয়ে ছোট হাতের অক্ষরে পরিবর্তন করা হয়।

গুগল কুয়েরী প্রসেসরঃ

এটি সর্বশেষ অংশ। এটাই আমাদের সার্চ রেজাল্ট প্রসেসিং করে। কুয়েরী প্রসেসর কয়েকটি অংশে বিভক্ত। ইউজার ইন্টারফেস,কুয়েরী ইঞ্জিন,রেজাল্ট ফরমেটর ইত্যাদি। গুগলের ওয়েবপেজ র‍্যাংকিং সিস্টেমের নাম পেজর‍্যাংক। যে পেজের পেজর‍্যাংক যত বেশী সেটা সার্চ রেজাল্ট এ তত উপরে থাকে। গুগলবট যেহেতু টেক্সটের সাথে পেজ কোড ও ক্রলিং করে তাই ইউজার চাইলে সার্চ টার্মটির অবস্থানও নির্দিষ্ট করে দিতে পারে যে সেটা লিংকে থাকবে,টাইটেলে থাকবে না টেক্সটে থাকবে। শুধু টার্মের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রেজাল্ট না দেওয়ার কারণেই গুগলের সার্চ রেজাল্টের মান এত উন্নত।

বিখ্যাত কয়েকটি সার্চ ইঞ্জিনের নাম হলোঃ গুগল (google), ইয়াহু (yahoo),বিং( bing) ইত্যাদি । এই সব সাইটে আপনি একটি শব্দ সার্চ বক্সে লিখে সার্চ বাটনে ক্লিক করলে , কয়েক সেকেন্ড এর মধ্য অনেক ওয়েবসাইটের লিংক চলে আসে, যেসব লিংকে গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় ।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ওয়েব ডেভলপারদের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোয়ালিটি ট্রাফিক সার্চ ইঞ্জিন থেকে ব্লগে আসে ফলে ব্লগ বিজ্ঞাপন ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠে ফলে পাঠক সন্তুষ্ট হয় এবং ব্লগার বিজ্ঞাপন থেকে উপকৃত হয়। প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র এইটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর থেকে আরো অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন মুলত দুই ধাপের মাধ্যমে হয়ে থাকে-
১।  অন পেজ অপটিমাইজেশন
২। অফ পেজ অপটিমাইজেশন

অন পেজ অপটিমাইজেশনঃ

ব্লগ বা ওয়েব পেজের মধ্যে আমরা যে সকল অপটিমাইজেশন করে থাকি তাকেই অন-পেজ অপটিমাইজেশন বলা হয়। অন পেজ অপটিমাইজেশনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল  সঠিক কিওয়ার্ড খোঁজা এবং এর ব্যাবহার, মেটা ট্যাগের ব্যবহার, টাইটেলে ট্যাগের ব্যবহার, বর্ণনা ট্যাগের ব্যবহার, কী ওয়ার্ড সমৃদ্ধ কনটেন্ট বনানো এবং এক্সএমএল সাইটম্যাপ যুক্ত করণ ইত্যাদি।

অফ পেজ অপটিমাইজেশনঃ

অফ পেইজ অপটিমাইজেন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থায়ী সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেন যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামুলক রেঙ্কিং এ একটি সাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সাধারনত উন্নত ব্যাকলিংক,  আর্টিকেল মার্কেটিং, ফোরাম পোস্টিং,  ইত্যাদির মাধ্যমে অফ পেইজ অপটিমাইজেশন করা হয়। অফ পেইজ অপটিমাইজেশন শুধুমাত্র একটি পাতায় নয় এর সঠিক ব্যাবহার আপনার পুরো ব্লগের উপরে পরবে অর্থাৎ এর ফলে আপনার ব্যাকলিংক বৃদ্ধি পাবে এবং পেজ রেঙ্ক বেড়ে যাবে।

তাই চেষ্টা করা উচিত সাইট এর কন্টেনটগুলো যেন অন্যান্য সাইট থেকে একটু আলাদা হয়। এর পরে আপনি আপনার কন্টেনট অনুযায়ী কিছু জনপ্রিয় কী- ওর্য়াড আপনার কন্টেনট পেইজ এ যোগ করে দিন।

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বলতে আমরা সোজা কথায় বুঝি সার্চ ইঞ্জিনের সাথে ওয়েবসাইটের ভাল সম্পর্ক তৈরি করা। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন ছাড়া একটা ওয়েবসাইট কখনোই পূর্ণতা পায় না কারন কোটি কোটি সাইটের অবস্থান প্রথম সারিতে তৈরি করতে হলে এর বিকল্প নেই।