বাংলাদেশে ই কমার্রস এর পালে হাওয়া লেগেছে। নতুন ও তরনু উদ্যোক্তাদের একটা অংশ পেইজবুকে বুজে খুলে বুস্ট পোস্ট করতে ব্যস্ত । কিছু মানুষের ভাবতে ভাবতে জান শেষ। কি ডোমেইন নেবেন, কোথা থেকে নেবেন,। হোস্টিং কত নেবেন, ব্যান্ডউইথ কত হবে, কার কাছে ওয়েবসাইট বানাবেন, কত লাগবে, কোন প্লাটফরম ব্যবহার করবেন, ইত্যকার নানা টেনশেন। আর কিছু লোক প্রথমে না বুঝে শুরু করছেন এখন আবার সব চেঞ্জ করে নতুন করে করার ধান্দায় আছেণ।যদিও যারা ইতোমধ্যে ই ক্যাবের সাথে কোনোভাবে জড়াতে পেরেছেন তারা সঠিক পরামর্ পাচ্ছেন। যারা ওয়েবসাইট বানাবার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এই লেখা।

প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই কমার্স বলতে আমরা বুঝি ইলেকট্রনিক্স মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যবসা করা তথা কেনাকাটা করে। বতর্মানে পন্যভিত্তিক ই কমার্স এর আরেক নাম অনলাইন শপ। ইকমার্স এর প্রাথমিক সূচনা হয় ইলেকট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই) এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এর মাধ্যমে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে আর্থিক লেনদেনের অনলাইন সার্ভিস শুরু হয় ১৯৭০ সালের দিকে।তার কিছুকাল পরেও এগুলোর এর ব্যবহার ছিলো খুবই সীমিত। এতে পারচেজ অর্ডার কিংবা ইনভয়েসের মতো বাণিজ্যিক ডকুমেন্টগুলো ইলেকট্রনিক উপায়ে প্রেরন করার পথ তৈরী হয়।
ই-কমার্সের আরো একধাপ উন্নতি হয় এয়ারলাইন রিজার্ভাশন সিস্টেম চালু করে অনলাইনে টিকেট বুকিং দেয়া শুরু গওয়ার পর।

ই-কমার্স প্রক্রিয়া

অনলাইনে ই-কমার্স ওয়েব সাইট থাকে যাতে বিক্রেতা পন্য ও সেবার পসরা সাজান। এসব সাইটে পন্য বা সেবার দাম, মান, সাইজসহ অন্যান্য বিবরণ থাকে।  ক্রেতা ওয়েবসাইটে পন্যের ছবি ও বিবরণ দেথে পন্য পছন্দ করেন। অর্ডার গ্রহন করার জন্য সাইটে শপিং কার্টের বা প্রোডাক্স ড্রপের ব্যবস্থা থাকে। এবং থাকে বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট সুবিধা। ক্রেতা যদি কার্ দিয়ে পন্য ক্রয় করতে চান কার্ডের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করে উক্ত পরিমান অর্থ প্রদান করতে হয়।  অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার পর ওয়েব সাইটে নেদেন সংক্রান্ত তথ্য ই-মেইল আকারে ক্রেতা, বিক্রেতাকে পাঠানো হয়। পক্রিয়াটি সঠিক হলে বিক্রেতা ক্রেতাকে উক্ত পণ্য সরবরাহ করেন।

কেমন হবে আপনার কমার্স সাইট:

ই কমার্স এর আপনার ওয়েবসাইটটি হবে ছিমছাম ও দৃস্টিনন্দন। যদি অনেক ধরনের পন্য থাকে তবুও এমনভাবে সাইট তৈরী করুন যাতে খুব হিজিবিজি মনে না হয়। কালার ও ডিজাইনের প্রতি খেয়াল রাখুন। ছবি পোস্ট করার সময় এর সাইজ পিক্সল দেখে আপলোড করুন। খুব বেশী বড় ছবিদিয়ে জায়গা মারা বা গতি কমানোর দরকার নেই। আবার লো ছবি দিয়ে অস্পষ্টতা তৈরী করার কোন মানে হয়না। ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য সহজ টেম্পলেট ও ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করুন। সস্তায় পাওয়ার জন্য এমন কোন টেমলেট বা প্লাগিন ব্যবহার করবেন না, যাতে আপনার পুরো ওয়েবসাইটাই পরে চেঞ্জ করতে হয়, আপনার ই কমার্স সাইটের প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে থাকবে মোবাইল ফ্রেন্ডলি ইউজার ইন্টারফেস, আনলিমিটেড পণ্য কেনার সুবিধা, নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে ও কাস্টমারের জন্য পয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য ।

কমার্স এ্যাপস:

বর্তমানে ইকমার্স সাইটের জন্য ব্যাবহারে সিএমএসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ম্যাজেন্টো। তবে এর দাম একটু বেশী। ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএসের একটি জনপ্রিয় প্লাগ-ইনস ডাব্লিউপি ই-কামার্স । যারা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ই-কামার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান অথবা ব্লগের পাশাপাশি অনলাইন শপ চালাতে চাচ্ছেন তাদের জন্য একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে ডাব্লিউপি ই-কামার্স।।   জুমলার ওপেনসোর্রস ইকমার্স সলিউশন হচ্ছে ভার্চুমার্ট। যারা জুমলা ব্যাবহার করে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য হতে পারে।   মোবাইল ও ট্যাবলেট এর জন্য টমেটো কার্ট যারা কম জানেন তাদের জন্য এটা পারফেক্ট । এছাড়া ওপেনসোর্স ই কমাসের জন্য রয়েছে আগোরা কার্ট, উবার কার্ট, প্রেস্তা শপ, ওএসকমার্স, জেন-কার্ট ইত্যাদি। অতো সাতে পাঁচে না গিয়ে আজকাল অনেকে ফেইসবুকের বিজনেস পেইজ ব্যবহার করে হরদম বেচাকেনা করছেন। যাদের ওয়েবসাইট বানাবার সময় নেই তাদের জন্য হয়তো ঠিক আছে। কিন্তু যারা পেশাদার ব্যবসায়ী তাদেরকে দুটিন আগে পরে ই কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে হবে। নিজস্ব ইআরএল এর মাধ্যমে নিজের ব্যবসায়িক আইডেন্টিটি ঠিক করার জন্য। তাদের উচিত টাকা খরচ করে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট তৈরি করা

ডোমেইন

ডোমেইন নামটা নেবেন সহজ ও ছোট এবং পরিচিত কোন শব্দ দিয়ে। এছাড়া আপনি যে ব্যবসা করার জন্য ডোমেইন নাম নেবেন সেটাও যেন নাম শুনে বোঝা যায় বিষয়টা মাতায় রাখবেন। এলপেবেট ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করবেন না। আনআর স্কোর ডট এগুলো পরিহার করবেন। পারতপক্ষে কোন সংখ্যার দিকে যাবেন না। নেহায়েত নামের মধ্যে যদি সংখা নিতে হয় তা যেন মিনিংফুল হয়। আর চেস্টা করবেন ডোমেইনটা ডটকমে নিতে। অবশ্যিই ডোমেইন এর কন্ট্রল প্যানেল নিজের কাছে নিবেন । কন্ট্রল প্যানেল দিতে পারবে না এমন প্রোভাইডার এর উদ্দেশ্য অসৎ । আর খুব সস্তা দামে ডোমেইন নেবেন না। আর যাদের কাছ থেকে ডোমেইন নেবেন তাদের সম্পর্ খোজ খরবর করে তারপর নেবেন।

ওয়েবসাইট হোস্টিং:

আজকাল ডোম্েনি হোস্টিং এর জন্য বিভিন্ন ধরনে র কোম্পানী নানা রকম অফার দিয়ে বসে তাতে আমরা কনফিউজড হয়ে যাই। এ সমস্যার একটা সমাধান এখন এসে গেছে। তা হলো সেসমস্ত প্রতিষ।ঠান E cOmmrce Assication of Bangldrsh এর মেম্বার হয়েছে তাদেরকে অনায়াসে ট্রাস্ট করা যায়।

আপনার ব্যবসার ধরুন অনুযায়ী ওয়েবসাইট চিন্তা করুন। আপনার ওয়েবসাইট এর ধরন অনুজায়ী আপনি হোস্টিং নিতে হবে।সাধারণ জ্ঞান অনুযায়ী যে হোস্টিং কোম্পানির সার্ভার আপটাইম যত বেশি, তাদের সার্ভার এর মান তত ভালো হয়ে থাকে।বিজ্ঞদের পরামর্শ হলো ৯৯.৯৯৯% সার্ভার আপটাইম আছে এমন হোস্টিং কোম্পানি বেছে নিন। কারন ৯৯.৯% সার্ভার আপটাইম থেকে ৯৯.৯৯৯% সার্ভার আপটাইম বেশি ভালো। ।। অনেকের মতে ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সার্ভার ই কমার্স ওয়েবসাইট এর জন্য ভালো। পুজি কম থাকলে শুরুতে শেয়ারড হোস্টিং এর ভালো স্পীড এর সার্ভার, আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ প্যাকেজ গুলো দেখতে পারেন। সার্ভার ভালো হলে, এগুলো বেশ কাজ করে। কিন্তু সাইটে ভিজিটর বাড়তে থাকলে তখন ভিপিএস এর দিকে চলে আসতে হবে আপনাকে।

ডিস্ক স্পেস :

একসময় অনেকে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা কামমোনোর জন্য ওয়েবসাইট খুলেছেণ বিজ্ঞাপন প্রচার করে টাকা উপার্জনের এসব ওয়েবসাইটে খুব বেশি ডিস্ক স্পেস এর প্রয়োজন হয় না। আপনার ই কমার্স সাইটের ক্ষেত্রে আপনার পন্য আইটমে ভিজিটর টার্ট এসব বিবেচনরা করে স্পেস নিতে হবে। ওয়েবসাইট এ পেইজভিউ বেশি হবে। যত বেশি পন্য বিক্রি হওয়ার সমভাবনা তৈরী হবে এবং তত বেশি ব্যান্ডউইথ খরচ হবে। সবচেয়ে ভালো হয় আন-লিমিটেড আছে এমন হোস্টিং প্যাকেজ নেয়া। কেউ বলেন, ২০ জিবি বা ৫০ জিবি ব্যান্ডউইথ এই ওয়েবসাইট এর জন্য ভালো হবে।কিন্তু সেটা শুনে কাজ নেই আপনার পন্য বা সেবা এবং অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখে সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এছাড়া আপনার ওয়েবসাইটে দিবেন আইটেম ওয়াইজ, টাইম ভিত্তিক ব্যবহার বা ক্রেতার শ্রেণী ভিত্তিক বিভিন্ন রকম সার্ অপশন। আপডেট সার্ থাকবে, ব্রান্ড নেম, কালার সাইজ , বয়স ইত্যাদি নানা সার্ সুবিধা। থাক্তে পারে একটি ফিডব্যাক ফরম। আপনি রাখতে পারেন।গ্রিাহকের সাথে ভিডিও চ্যাটের সুবিধা। পন্যের সাথে অতিরিক্ক তথ্য হিসেবে কমেন্ট ও বিশেষ গুনাগনও দিতে পারেন। আপনার শপ পেএজই থাকতে পারে ভ্লগিং সুবিধা ও কাস্টমার কমেন্ট বক্স।

ওয়েবসাইট আপডেট ও ম্যানেজমেন্টর প্রতিটি পর্যায়ে আপনাকে সতর্ত থাকতে হবে। কারো সম্পর্ ভালো না জেনে তাকে এডমিন বানাবেন না। সিকিউরিটি অপশনগুরো শুরুকে শব্তিশারী করুৃন। কারে সাথে কোন কারনে সম্পর্ক অবনতি ঘটলে সিক্বিুরিটি কি পরিবতর্ণ করে নিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে